Table of Contents
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যোজনার ১৩ পাতার ফর্ম নিয়ে আতঙ্ক? জানুন আসল সত্যি ও ফর্ম ডাউনলোড লিঙ্ক
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প (Annapurna Bhandar Scheme) এবং এর ১৩ পাতার ফর্ম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। চারিদিকে রটে গেছে যে পাকা বাড়ি বা বাইক থাকলে নাকি এই যোজনার সুবিধা পাওয়া যাবে না। কিন্তু এই সমস্ত তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভুয়ো!
নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তরের মাননীয় মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল এবং সরকারি আধিকারিকদের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সঠিক নিয়ম, আবেদন প্রক্রিয়া এবং ফর্ম ডাউনলোডের আসল সত্যিটি নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

❌ ভুয়ো খবর থেকে সাবধান: যে সমস্ত কারণে আপনার নাম বাদ পড়বে না
সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু অসংগঠিত চ্যানেল ও বক্তারা দাবি করছেন নিচের জিনিসগুলো থাকলে নাম বাদ যাবে, যা একেবারেই ভুল। আপনার পরিবারে যদি নিচের বিষয়গুলো থাকে, তবুও আপনি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাবেন:
- আপনার যদি ছাদওয়ালা পাকা বাড়ি বা ৩-৪টি রুম থাকে।
- পরিবারের মাসিক আয় যদি ১০,০০০ টাকার বেশি হয়।
- পরিবারের কেউ (যেমন স্বামী বা বাবা) যদি সরকারি চাকরি করেন বা কোটি টাকাও বেতন পান, কিন্তু আবেদনকারী মহিলা নিজে যদি বেকার হন, তবে তিনি অবশ্যই আবেদন করতে পারবেন।
- বাড়িতে যদি বাইক, চার চাকার পার্সোনাল গাড়ি, জিপ বা ট্রাক্টর থাকে।
- আপনি যদি সরকারের অন্য কোনো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে থাকেন।
- আপনার নিজের নামে বা পরিবারের কারও নামে যদি LIC পলিসি করা থাকে।
📋 আসল নিয়ম: কারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না?
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে আবেদন বাতিল হতে পারে। সেই আসল কারণগুলো হলো:
- বয়সের সীমা: আবেদনকারী মহিলার বয়স অবশ্যই ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। ২৫ বছরের কম বা ৬০ বছরের বেশি হলে তিনি সুবিধা পাবেন না।
- স্থায়ী সরকারি কর্মচারী: আবেদনকারী মহিলা নিজে যদি সরাসরি কোনো স্থায়ী সরকারি চাকরি করেন।
- সরকারি পেনশনভোগী: আবেদনকারী নিজে যদি প্রতি মাসে সরকারি পেনশন পেয়ে থাকেন।
- সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মী: সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল বা কলেজের শিক্ষক, শিক্ষিকা এবং অন্যান্য স্থায়ী কর্মীরা এর আওতাভুক্ত নন।
- আয়কর দাতা: যে সমস্ত মহিলা সরকারকে নিয়মিত ইনকাম ট্যাক্স (আয়কর) বা প্রফেশনাল ট্যাক্স দেন।
- SIR ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া: SIR (সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট) ভেরিফিকেশনে যাদের নাম মৃত, ডুপ্লিকেট, শিফটেড বা বেআইনি (অনুপ্রবেশকারী) হিসেবে চিহ্নিত হয়ে বাতিল হয়েছে।
📝 হঠাৎ ১৩ পাতার ফর্ম কেন? সরকারের আসল পরিকল্পনা জানুন
এত বড় ফর্ম দেখে অনেকেই ঘাবড়ে যাচ্ছেন, কিন্তু এর পেছনে সরকারের দুটি সুদূরপ্রসারী এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য রয়েছে:
- ভেজাল ও দুর্নীতি মুক্ত করা: আগের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ ভুয়ো, মৃত এবং ডুপ্লিকেট অ্যাকাউন্ট ছিল, যেগুলোতে বেআইনিভাবে টাকা যাচ্ছিল। এই ১৩ পাতার ফর্মের মাধ্যমে সমস্ত তথ্য যাচাই করে প্রকল্পে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা আনা হচ্ছে।
- ভবিষ্যতের পার্মানেন্ট ডাটাবেস: এই ফর্মের মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকদের একটি স্থায়ী ডাটাবেস তৈরি হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে সরকারের কোনো নতুন প্রকল্প এলে মহিলাদের আর নতুন করে ফর্ম ফিলাপ করতে হবে না, এই ডাটা দেখেই সরাসরি সুবিধা দেওয়া যাবে।
- ফর্ম ফিলাপ খুবই সহজ: ১৩ পাতার ফর্ম হলেও সমস্ত পেজ সবার জন্য নয়। বেশিরভাগ পেজেই শুধু মাল্টিপল চয়েস (MCQ) প্রশ্নের মতো টিক চিহ্ন দিতে হবে। পুরো ফর্মটি পূরণ করতে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগবে।
🏢 ফর্ম কোথায় পাবেন এবং কীভাবে জমা দেবেন?
ফর্ম ডাউনলোড বা ফিলাপ করার জন্য অনলাইন দোকান বা সাইবার ক্যাফেতে ভিড় করার এবং টাকা খরচ করার কোনো প্রয়োজন নেই। সরকার এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিচ্ছে:
- বাড়িতে আসবে ফর্ম: বিএলও (BLO) সাহেবরা নিজে আপনাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই ফর্ম পৌঁছে দেবেন।
- সরকারি অফিস: এছাড়া পঞ্চায়েত, বিডিও (BDO) অফিস, পুরসভা, এসডিও (SDO) বা ডিএম (DM) অফিসে এই ফর্ম বিনামূল্যে পাওয়া যাবে।
- সরকারি ক্যাম্প: জুন মাসের মাঝামাঝি সময় (১৫, ১৬, ১৭ তারিখ নাগাদ) আপনাদের এলাকায় বিশেষ সরকারি ক্যাম্প করা হবে, সেখানে আপনারা ফ্রিতে ফর্ম নিয়ে জমা দিতে পারবেন।
💰 ৩,০০০ টাকা কবে থেকে পাওয়া যাবে?
অনেকে বলছেন ৩ মাস বা ৯০ দিন পর টাকা দেওয়া শুরু হবে, যা সম্পূর্ণ ভুল তথ্য। টাকা পাওয়ার আসল নিয়মটি হলো:
- জুন মাসে আপনারা এতদিন ধরে চলে আসা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-এর টাকা যথারীতি নিজের অ্যাকাউন্টে পেয়ে যাবেন।
- জুন মাসে নতুন ফর্ম জমা দেওয়ার পর প্রতি সপ্তাহে সরকারিভাবে ভেরিফিকেশন ও এনরোলমেন্টের কাজ চলবে।
- আপনার ফর্মটি ভেরিফাই হতে যতটুকু সময় লাগবে (২ দিন বা ৫ দিন), সেটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার ঠিক পরের মাস থেকেই আপনার অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা করে ঢুকতে শুরু করবে। অর্থাৎ, কোনো টাকা আটকাবে না।
📥 অন্নপূর্ণা যোজনা অফিসিয়াল ফর্ম ডাউনলোড লিঙ্ক (Official PDF Download)
আপনার সুবিধার্থে নিচে অন্নপূর্ণা যোজনার অফিসিয়াল ফর্মের পিডিএফ ডাউনলোড লিঙ্ক দেওয়া হলো। আপনার পছন্দের ভাষা অনুযায়ী নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে ফর্মটি ডাউনলোড করে নিতে পারেন:
👉 অন্নপূর্ণা যোজনা বাংলা ফর্ম ডাউনলোড (PDF)
👉 Annapurna Yojana English Form Download (PDF)
👉 অন্নপূর্ণা যোজনা হিন্দি ফর্ম ডাউনলোড (PDF)
📋 প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং প্রতিটি সেকশন পূরণ করার নির্দেশিকা
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana) পারিবারিক স্তরের তথ্য সংগ্রহের ফর্মটিতে মোট ৮টি প্রধান সেকশন (ক থেকে জ) রয়েছে, যা পূরণ করা বাধ্যতামূলক। ফর্ম পূরণের সময় নিচের নথিপত্রগুলোর স্ব-প্রত্যয়িত ফটোকপি (Self-attested xerox) সাথে রাখা বাধ্যতামূলক:
📌 প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস (Required Documents):
- পরিবারের প্রধান (HOF) এবং সমস্ত প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের আধার কার্ড।
- আধার লিঙ্কড অ্যাক্টিভ ব্যাংক পাসবইয়ের প্রথম পাতা।
- পরিবারের সকলের ভোটার কার্ড (EPIC)।
- ডিজিটাল রেশন কার্ড।
- জাতিগত শংসাপত্র (Caste Certificate) অথবা EWS শংসাপত্র (যদি প্রযোজ্য হয়)।
- সর্বশেষ জমির নথি (RoR/পরচা) এবং মিউটেশন কপি।
- যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন বা বিমা নথি (যদি ৪ চাকার গাড়ি থাকে)।
- স্বাস্থ্যবিমা ও এলআইসি (LIC) পলিসির প্রিমিয়ামের বিবরণ।
- প্যান কার্ড (PAN Card) এবং সরকারি পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে পেনশন স্লিপ।
- শিশুদের বিদ্যালয়ের নথি এবং টিকাকরণ কার্ড (Vaccination Card ID)।
🛠️ স্টেপ-বাই-স্টেপ ফর্ম ফিল-আপ গাইড:
বিভাগ ক: পারিবারিক পরিচয় (Family Identity)
এখানে পরিবারের প্রধানের (HOF) পুরো নাম, জন্মতারিখ, লিঙ্গ এবং আধার নম্বর লিখুন। ডিজিটাল রেশন কার্ডের ফ্যামিলি আইডি, মোট সদস্য সংখ্যা, স্থায়ী ঠিকানা এবং প্রধানের আধার লিঙ্কড মোবাইল নম্বর দিন। এরপর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নাম, সম্পর্ক ও আধার নম্বর লিখুন (৫ বছরের কম শিশুর আধার না থাকলে ‘NA’ লিখতে পারেন)। DBT-র মাধ্যমে টাকা পাওয়ার জন্য সবার আধার লিঙ্কড ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও IFSC কোড এবং ভোটার কার্ডের পার্ট নম্বর উল্লেখ করুন। শেষে নিজের কাস্ট (UR/SC/ST/OBC/EWS) টিক দিন।
বিভাগ খ: রেশন কার্ড / খাদ্য ভর্তুকি (Ration Card / Food Subsidy)
আপনার ডিজিটাল রেশন কার্ড আছে কিনা তা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বক্সে টিক দিন। ‘হ্যাঁ’ হলে কার্ডের ধরন (AAY, PHH, SPHH, RKSY1, RKSY2) বেছে নিন এবং দোকান থেকে নিয়মিত রেশন তুলছেন কিনা তা উল্লেখ করুন।
বিভাগ গ: সম্পদ (Assets)
আপনার বাড়িতে ৩টি বা তার বেশি পাকা ঘর আছে কিনা তা নির্দিষ্ট করুন। পরিবারের জমি থাকলে ‘হ্যাঁ’ বক্সে টিক দিয়ে মোট জমির পরিমাণ ‘শতক’ (Decimals) হিসেবে লিখুন এবং পরচা যুক্ত করুন। কোনো ব্যক্তিগত অ-বাণিজ্যিক ৪ চাকার গাড়ি থাকলে তার মডেল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিন। স্বাস্থ্যবিমা বা LIC থাকলে তার প্রিমিয়ামের বিবরণ দিন।
বিভাগ ঘ: আয়/পেশা (Income/Profession)
পরিবারের কেউ আয়কর দেন কিনা এবং প্যান কার্ড থাকলে তার নম্বর লিখুন। প্রতিটি সদস্যের কর্মসংস্থানের ধরন (সরকারি, বেসরকারি, স্বনিযুক্ত, পরিযায়ী বা বেকার) বেছে নিন। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে শিক্ষিত ও অশিক্ষিতের সংখ্যা এবং সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা লিখুন। পরিবারে কোনো মন্ত্রী, এমপি বা এমএলএ থাকলে বা কেউ সরকারি পেনশনভোগী হলে তার বিবরণ ও পেনশন স্লিপ যুক্ত করে মোট বার্ষিক আয় লিখুন।
বিভাগ ঙ: অন্যান্য পরিচয় নথি (Other Identity Documents)
কারও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর অধীনে আবেদনের স্থিতি থাকলে তা লিখুন। এছাড়া কিষাণ ক্রেডিট কার্ড (KCC), শিল্পী বা স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের নম্বর ও ইস্যুর তারিখ দিন। SIR ২০২৬-এ নাম বাদ পড়ে থাকলে মামলাটি ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন কিনা তা উল্লেখ করুন।
বিভাগ চ: সামাজিক মর্যাদা এবং নির্ভরশীল ব্যক্তিগণ (Social Status and Dependents)
বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিশুদের নাম, ক্লাসের নাম এবং স্কুলের ধরন (সরকারি/বেসরকারি/মাদ্রাসা) লিখুন। শিশুদের ভ্যাকসিনের বর্তমান অবস্থা কী তা টিক দিয়ে টিকাকরণ কার্ডের আইডি বা শেষ টিকা নেওয়ার তারিখ উল্লেখ করুন।
বিভাগ ছ: সরকারি প্রকল্পের আওতায় সুবিধা (Benefits Under Government Schemes)
পরিবারের কেউ ইতিমধ্যে কোনো সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে (DBT) পেয়ে থাকলে সেই প্রকল্পের নাম লিখুন। নতুন অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধার জন্য আগের কোনো প্রকল্প থেকে নাম প্রত্যাহার করতে চাইলে “প্রত্যাহার করতে চান?” বক্সে ‘হ্যাঁ’ টিক দিন।
বিভাগ জ: ঘোষণা ও সম্মতি (Declaration & Consent)
এটি ফর্মের শেষ অংশ। ফর্মে দেওয়া তথ্য সম্পূর্ণ সত্য—এই শর্তে রাজি হয়ে ‘সম্মত’ (Agree) বক্সে টিক দিন এবং আবেদনকারী নিচে স্থান, তারিখ উল্লেখ করে নিজের স্বাক্ষর (Signature) করুন।
দ্রষ্টব্য: ‘পরিবার’ বলতে এমন একদল ব্যক্তিকে বোঝায়, যারা সাধারণত একসঙ্গে বসবাস করেন এবং একই রান্নাঘর থেকে খাবার গ্রহণ করেন।
🏢 শুধুমাত্র সরকারি ব্যবহারের জন্য অংশ (For Official Use Only)
ফর্মের একদম শেষের অংশটি (১৩ নম্বর পৃষ্ঠা) আবেদনকারীদের পূরণ করার কোনো প্রয়োজন নেই। এটি মূলত ভেরিফিকেশন বা এনকোয়ারি অফিসারদের জন্য সংরক্ষিত। তারা আপনার বাড়িতে এসে সমস্ত তথ্য মিলিয়ে দেখার পর আবেদনপত্রটি গ্রহণ বা বর্জন করার সুপারিশ করবেন এবং নিজের নাম ও পদসহ অফিসিয়াল স্বাক্ষর করবেন।
উপসংহার: সোশ্যাল মিডিয়ার কোনো ভুয়ো বা মনগড়া খবরে কান দিয়ে আতঙ্কিত হবেন না। এই প্রকল্পটির মাধ্যমে যোগ্য ও বৈধ পশ্চিমবঙ্গবাসী মহিলারা বছরে মোট ৩৬,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন। সরকারি আধিকারিকদের সাথে সহযোগিতা করুন এবং শান্ত মাথায় আপনার ফর্মটি নির্দিষ্ট সময়ে জমা দিন।
Discover more from mystate.co.in
Subscribe to get the latest posts sent to your email.


